সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত-সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষা। সাধারণ শিক্ষায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব স্পষ্ট। অপরদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা সুপ্রাচীন ও কল্যাণমুখী শিক্ষার ধারক হিসেবে সুপরিচিত। এই শিক্ষাধারা ইসলামী জীবন দর্শনের আলোকে উপমহাদেশসহ সারা পৃথিবীতে গড়ে তুলছে আখিরাতমূখী মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ মানুষ। কিন্তু এই শিক্ষাধারা নৈতিকতা ও মূল্যবোধের মানদন্ডে উত্তীর্ণ একদল আদর্শ মানুষ ও দক্ষ আলেম তৈরীতে সফল হলেও এর দ্বারা সময়োপযোগী ও সৃজনশীল মানুষ সেভাবে তৈরী হচ্ছে না। এই বাস্তবতা সামনে রেখে আমরা নাফহাতুল ইলম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে সাধারণ ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয় ঘটবে। এই স্কুলে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন কুরআন-হাদিস, ফিকহ, সিরাত ও ইসলামী নৈতিকতা শিখবে, অন্যদিকে বিজ্ঞান, গণিত, ভাষা ও প্রযুক্তি শিক্ষা লাভ করবে। ফলে, তারা কেবল ধর্মীয় জ্ঞানেই সমৃদ্ধ হবেনা, বরং আধুনিক বিশ্বেও দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠবে। এই সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করবে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মিক উন্নয়ন, একাডেমিক উৎকর্ষ এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে নৈতিকতাসম্পন্ন, বিজ্ঞানের জ্ঞানসম্পন্ন, দক্ষ এবং সৎ নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা সমাজ ও জাতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি।